পটাশপুর নিউজ: Reported By – Sanjib Acharyya
Swarnajita Maiti: রিলস দেখে যোগাসন শিখে রাজ্য স্তরে সাফল্য
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছোট্ট মেয়ে স্বর্ণজিতা মাইতি (Swarnajita Maiti ) আজ ক্রীড়া জগতে নিজের প্রতিভা দিয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। মাত্র ১০ বছর বয়সেই সে জেলা ও রাজ্য স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল, কোনও বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা আধুনিক সুযোগ সুবিধা ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস দেখে নিজে নিজেই যোগাসন শিখে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে।
স্বর্ণজিতা মাইতি কে
স্বর্ণজিতা মাইতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ১ ব্লকের কাজলা গ্রামের বাসিন্দা।
সে বর্তমানে শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।
একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের হলেও তার মনে ছিল বড় কিছু করার স্বপ্ন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিজের চেষ্টায় সে আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু স্বপ্নের যাত্রা
গ্রামের মাটির বাড়িতে বড় হওয়া স্বর্ণজিতার জীবনে কোনও বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা কোচিং ছিল না।
তবে তার মধ্যে ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং শেখার প্রবল আগ্রহ। ছোট থেকেই সে বিভিন্ন খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহী ছিল।
কিন্তু তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাসনের ভিডিও দেখার পর।
সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস থেকেই যোগাসনের শুরু
একদিন বাবার স্মার্টফোনে রিলস দেখতে দেখতে স্বর্ণজিতার চোখে পড়ে বিভিন্ন যোগাসনের ভঙ্গিমা।
সেই ভিডিওগুলো তাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে যোগাসন শুধু শরীরের জন্যই নয়, মন ও মানসিক শক্তির জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
এরপর থেকেই শুরু হয় তার নতুন যাত্রা।
কীভাবে শুরু হয় অনুশীলন
প্রথমদিকে স্বর্ণজিতার পাশে কোনও প্রশিক্ষক ছিল না। তবুও সে থেমে যায়নি।
রিলস দেখে সে নিজেই যোগাসন শেখা শুরু করে।
তার অনুশীলনের পদ্ধতি
- মোবাইলে ভিডিও দেখে যোগাসনের ভঙ্গিমা অনুকরণ করা
- ভিডিও থামিয়ে থামিয়ে ধাপে ধাপে অনুশীলন করা
- বাড়ির উঠোনকে বানিয়ে নেওয়া নিজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
- ভুল হলে আবার নতুন করে চেষ্টা করা
এইভাবে প্রতিদিন অনুশীলন করতে করতে ধীরে ধীরে সে যোগাসনে দক্ষ হয়ে ওঠে।
স্কুল প্রতিযোগিতা থেকে শুরু সাফল্যের পথ
স্বর্ণজিতার প্রতিভা প্রথম প্রকাশ পায় স্কুলের যোগাসন প্রতিযোগিতায়।
সেখানে অংশ নিয়ে সে একের পর এক কঠিন যোগাসনের ভঙ্গিমা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রদর্শন করে। তার পারফরম্যান্স দেখে বিচারকরা মুগ্ধ হয়ে যান।
এই প্রতিযোগিতাতেই সে প্রথম জয়ের স্বাদ পায়।
একের পর এক সাফল্য
স্কুল স্তরে সাফল্যের পর স্বর্ণজিতার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এরপর সে বিভিন্ন স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে।
তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য
- স্কুল স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় সাফল্য
- মহকুমা স্তরের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল
- জেলা স্তরে পদক অর্জন
- রাজ্য স্তরের মঞ্চে দক্ষতার প্রমাণ
একাধিক মেডেল জিতে আজ স্বর্ণজিতা মাইতি জেলার ক্রীড়া মহলে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।
শিশুদের জন্য অনুপ্রেরণা স্বর্ণজিতা
বর্তমান সময়ে অনেক শিশু যখন মোবাইল গেম বা বিনোদনে বেশি সময় কাটায়, তখন স্বর্ণজিতা দেখিয়ে দিয়েছে প্রযুক্তিকে কীভাবে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
তার গল্প আমাদের শেখায়—
- প্রতিভা কোনও নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
- প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও বড় স্বপ্ন দেখা যায়
- কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্য আসবেই
ভবিষ্যতের স্বপ্ন
স্বর্ণজিতা মাইতির লক্ষ্য আরও বড়।
সে ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায় এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে।
তার এই অদম্য প্রচেষ্টা ও সাফল্য আজ বহু ছাত্রছাত্রী এবং তরুণ-তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
FAQ (Frequently Asked Questions)
1. স্বর্ণজিতা মাইতি কে
স্বর্ণজিতা মাইতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের ১০ বছরের এক প্রতিভাবান যোগাসন খেলোয়াড়, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস দেখে নিজে নিজেই যোগাসন শিখে জেলা ও রাজ্য স্তরে সাফল্য অর্জন করেছেন।
2. স্বর্ণজিতা মাইতি কোন স্কুলের ছাত্রী
তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।
3. স্বর্ণজিতা কীভাবে যোগাসন শিখেছে
স্বর্ণজিতা প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস দেখে নিজে নিজেই যোগাসনের অনুশীলন শুরু করে এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে।
4. স্বর্ণজিতা মাইতি কোন কোন স্তরে সাফল্য পেয়েছে
সে স্কুল, মহকুমা, জেলা এবং রাজ্য স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছে।
5. স্বর্ণজিতার ভবিষ্যতের লক্ষ্য কী
তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
Swarnajita
Srirampur Hp High School Student







