উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে অভিনব এক টানাটানির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। এক পরীক্ষার্থীকে নিয়ে তাঁর মা ও শাশুড়ির মধ্যে এই টানাটানি ঘটে, যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দেয় এলাকায়।
১৮ পেরনোর কিছুদিনের মধ্যেই প্রেমিক সুরজ পাসোয়ানের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন ওই ছাত্রী। তার পর থেকে শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন তিনি। কিন্তু এদিন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে এসে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত হন তাঁর মা। বের হতেই মেয়েকে নিয়ে টানাটানি শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে বউমাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর শাশুড়ি।
ঘটনার বিবরণ
গুসকরা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী ওই পরীক্ষার্থী বুধবার গুসকরা পি পি ইন্সটিটিউশন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসেন। স্বামী তাঁকে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও শাশুড়ি অপেক্ষা করছিলেন কেন্দ্রের বাইরে। পরীক্ষা শেষে ছাত্রী বের হতেই মা তাঁকে জোর করে নিজের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাত্রী শ্বশুরবাড়ি যেতে আগ্রহী ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে, দুই পক্ষের টানাটানির একপর্যায়ে পড়ে যান ওই ছাত্রী। মাথায় চোট লাগায় তাঁকে গুসকরা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতাল চত্বরে দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল বচসা বাধে।
দুই পক্ষের বক্তব্য
ছাত্রীর শাশুড়ি বলেন, “আমার বউমার বাবা, মা, কাকা সবাই আমাদের বাড়িতে গিয়ে পাকা কথা বলেই বিয়ের ঠিক হয়। দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলে তবেই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
অন্যদিকে ছাত্রীর মায়ের দাবি, “আমি আমার মেয়ের এখনই বিয়ে দিতে চাইনি। কিন্তু ছেলের বাড়ির লোকজন বেইমানি করল। পাড়ার কয়েকজন ওদের মদত জুগিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম মেয়েকে আরও পড়াশোনা করাব।”
ছাত্রী যা বলল
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সে শ্বশুরবাড়িতেই থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
প্রেম ও পড়াশোনা, অভিভাবকের ইচ্ছা আর সন্তানের স্বাধীনতা— সব মিলিয়ে জটিল এক সামাজিক ইস্যুর আভাস দিচ্ছে গুসকরার এই ঘটনা।





