পটাশপুর নিউজ | Reported Desk
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরে এক নববধূর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তরুণীর। হঠাৎ করেই তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা গ্রামে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরে এক নববধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত তরুণীর নাম সুমিতা আচার্য (২৩)। মাত্র তিন মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক অনুষ্ঠানে বাবার বাড়িতে এসে তিনি আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
৩ মাস আগে বিয়ে, আচমকাই নববধূর রহস্যমৃত্যু
জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বিয়ে হয়েছিল সুমিতা আচার্যের (২৩)। তিনি পটাশপুর ২ ব্লকের পূর্ব খাঁড় গ্রামের বাসিন্দা অশ্বিনী আচার্যের একমাত্র মেয়ে।
বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি পূর্ব পাঁড়ার বাসিন্দা সুখেন্দু পণ্ডার সঙ্গে সংসার শুরু করেন। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
বাবার বাড়িতে এসে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা
গত শনিবার জ্যাঠিমার বার্ষিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষে সুমিতা বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। পরিবারের দাবি, বাড়িতে আসার পর থেকেই তিনি কিছুটা চুপচাপ ছিলেন এবং কারও সঙ্গে তেমন কথা বলছিলেন না।
রাতের দিকে হঠাৎ তার গায়ে আগুন লাগানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকদের ঘোষণা
চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে কোনও সমস্যা ছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, মানসিক অবসাদ থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পরিবারের শোকে স্তব্ধ গ্রাম
একটি মাত্র মেয়েকে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন সুমিতার বাবা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। হঠাৎ এই ঘটনায় পুরো গ্রামই শোকাহত হয়ে পড়েছে।
গ্রামের মানুষদের প্রশ্ন – বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল তরুণী?
পঞ্চায়েতের উদ্যোগ
পূর্ব খাঁড় গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ণ কামিল্যা জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
মৃতদেহ কলকাতা থেকে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।





